শীতের আগমন
শীত মানেই চারপাশে সাদা কুয়াশা। ঘাসের ডগায় ডগায় শিশির আর হালকা
বাতাস সকালের নরম রোদে গরম গরম
চা খাওয়া যেন আলাদা একটা আনন্দ। বাংলাদেশে শীতকাল শুধু ঠান্ডার ঋতু নয় শীতকাল মানেই পিঠা-পুলির আনন্দ আর উৎসব।
পেজ সূচীপত্রঃ শীতকালের জনপ্রিয় খাবার
শীতকালের জনপ্রিয় খাবার
শীতকাল মানেই বাজারে নানান রকমের সবজির সমাহার।শীতকালের নতুন আলু, মুলা, বেগুন,
পালংশাক,ফুলকপি,
বাঁধাকপি, মটরশুঁটি, সিম, গাজর, টমেটো, ধনেপাতা, বিভিন্ন ধরনের শাক আরো ইত্যাদি
সবজি পাওয়া যায়।
শীতের খাবার হিসেবে শুধু সবজি নয় আরো অনেক সুস্বাদু খাবার রয়েছে শীতকালে
বিভিন্ন ধরনের পিঠা পুলি এবং পায়েশ খুবই জনপ্রিয়। শীতে ভাঁপা পিঠা, পাটিসাপটা,
দুধ পুলি, পাকান, নারু, চিতই পিঠা, বকুল পিটা, আরো অনেক
ধরনের পিঠা তৈরি করা হয় এছাড়াও নারিকেল এবং দুধ দিয়ে পায়েস রান্না করা হয়।
শীতকাল বাংলাদেশের জনপ্রিয় একটি ঋতু। এই ঋতুতে নবান্ন উৎসব হয়। নবান্ন উৎসবে
মেলা হয় মেলায় বিভিন্ন ধরনের খেলনা পাওয়া যায়।
শীতে কিভাবে সুস্থ থাকবেন
শীতকালে আবহাওয়া ঘন ঘন পরিবর্তন হয় যার ফলে মানুষের নানন রকম অসুখ দেখা দেয়। ঘন
কুয়াশা আর তীব্র ঠান্ডা বাতাসে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারেনা ফলে মানুষের
দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটে
শীতকালে সুস্থ থাকার কোনো বিকল্প নেই। সাধারণত শীতে মানুষের জ্বর, সর্দি,
কাশি,গলা ব্যথা, মাইগ্রেনের ব্যথা আরো নানান অসুখ হয়ে থাকে। এজন্য ঘরে সব
সময় জরুরি ওষুধ রাখতে হবে। শীতকালে সময় মতো গোসল করতে হবে
ঠান্ডা লাগানো যাবেনা এতে অনেকটা অসুস্থতা থেকে দুরে থাকা যাবে। অতিরিক্ত কাশি
হলে আদা লং এবং হালকা চিনি দিয়ে চা পান করুন। গলা ব্যথা হলে গলায় ঠান্ডা লাগানো
থেকে বিরত থাকুন। লবন পানি দিয়ে গড়গড়া করুন। এতেও যদি ব্যথা না কমে তাহলে দ্রুত
চিকিৎসকেরপরামর্শ নিন।
শীতকালে খাদ্য তালিকা
শীতকালে বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় মানুষ বেশি অসুস্থ হয়। এই সময় ছোট বড়ো
সকলের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব কম থাকে। তাই আমাদের খাদ্য তালিকা বদলানো
দরকার। আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকাতে পুষ্টিকর
খাবার রাখতে হবে। যেমন সুষম খাদ্য হিসেবে প্রতিদিন মাছ,
মাংস,ডিমের,পাশাপাশি,দুধ,খেজুর,কলা,পনির,কলিজা,আরো বিভিন্ন ধরনের বাদাম-কাঠ
বাদাম,কাজুবাদাম,চিনাবাদাম, আখরোট বাদাম পেস্তা বাদাম ইত্যাদি।
শীতকালে আমাদের শরীর খুব ঠান্ডা থাকে। শরীর কে উষ্ণ রাখতে নিয়মিত মধু এবং ঘি
খাওয়া দরকার। এতে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে আর শরীর কে সুস্থ রাখতে
সাহায্য করে।
শীতে ত্বক ভালো রাখার টিপস
আরো পড়ুনঃ
সাধারণত শীতের ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসের কারণে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়
যার কারণে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ
হতে পারে। তাই শীতে ত্বকের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। তাই ত্বক কে কোমল ও
ময়েশ্চারাইজিং করতে ক্রিম বা লোশন
ব্যবহার করুন। এতে ত্বক কোমল নরম ও মসৃণ হবে। গোসলের পরে হাত, পা আর ঠোঁটের
যত্নে মনোযোগ দিন।
শীতে গরম পানিতে গোসল করতে ভালো লাগে। কিন্তু অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের জন্য
ক্ষতিকর।
শীতকালে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মনির জন্য ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। অতিরিক্ত
শুষ্কতা, চুলকানি, ফাটাভাব বা লালভাব দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে দেরি না করেই
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।ত্বকের শুষ্কতাকে সাধারণ সমস্যা মনে করে কখনোই অবহেলা
করবেন না।
শীতকালে শরীর চর্চা
শীতকালে ঠান্ডা থাকলেও শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করতে হবে না
এই ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। শীতকালে সকালে লেপ, কম্বল ছেড়ে ওঠতে মন চায়না। ফলে
শরীরচর্চার অভ্যাসটাও কমে যায়। কিন্তু শীতকালে নিয়মিত শরীরচর্চা করলে শরীর এবং
মন
ভালো থাকে। এছাড়াও ঘুমের মান উন্নত করতে দৈনন্দিন কাজে সতেজ থাকতে সাহায্য করে।
শীতে সহজ নিরাপদ শরীরচর্চার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হাঁটাহাঁটি। প্রতিদিন যতটুকু
পারবেন হাঁটবেন। যদি সম্ভব হয় তাহলে পাশাপাশি খেলাধুলা করাও একধরনের
ব্যায়াম।
হাঁটার পাশাপাশি হালকা দৌড়ালে শরীরকে নড়াচড়া করার জন্য প্রস্তুত করা যায়।
বাহিরে অতিরিক্ত ঠান্ডা হলে ঘরেই ব্যায়াম করতে পারেন। তবে বয়স ও শারীরিক
সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়ামের ধরন বেঁচে নেওয়াই ভালো।
শীতকালের পোশাক
শীতকালে শরীরকে গরম রাখার জন্য উপযুক্ত শীতকালীন পোশাক পরিধান করতে হবে। শরীরের
উষ্ণতা ধরে রাখার জন্য গরম পোশাক পড়া অতি জরুরী। তবে শুধু গরম সব পড়লেই হবে
না আবহাওয়া অনুযায়ী সঠিক পোশাক বেঁচে নিতে হবে।
শীতের টুপি, মাফলার, জ্যাকেট, সোয়েটার, হাত মোজা,পা মোজা, কম্বল, চাদর পরিধান
করুণ।এতে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাবেন। বাহিরে যাওয়ার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলো
ব্যবহার করা যায়।
মাথা ও কানকে ঠান্ডা থেকে বাঁচাতে উলের টুপি বা কান ঢাকা টুপি ব্যবহার করা যেতে
পারে। শীতে বাতাসে বাহিরে গেলে মাফলার বেশ উপকারী। এটি ঘাড় ও গলাকে ঢেকে
রাখে।আবহাওয়া ও প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পোশাক বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
শীতকালে বাচ্চাদের সুরক্ষা
আরো পড়ুনঃ
শীতকাল মানে কুয়াশা ঠান্ডা বাতাস আর তাপমাত্রার পরিবর্তন। ঠান্ডা আবহাওয়ার
কারনে শিশুদের জ্বর সর্দি, কাশি,শ্বাসকষ্ট এবং ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা
দেখা দিতে পারে। তাই এই সময় বড়দের তুলনায় বাচ্চাদের একটু বেশি
যত্নের প্রয়োজন। শীতকালে রোদের তাপমাত্রা তুলনামূলক অনেক কম থাকে তাই শিশুর ঘরে
পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে। উপযুক্ত গরম কাপর রাখতে হবে। এমনকি
দিনের বেলা যখন রোদ উঠবে তখন বাচ্চাদের
ব্যবহারের প্রয়োজনীয় জামা কাপড় রোদে দিয়ে গরম করে রাখতে হবে। এতে বাচ্চারা
আরামদায়ক বোধ করবে। এছাড়া ও শিশুদের খাবার ও পানি খাওয়ানোর দিকে নজর দিন।শিশুর
বয়স অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার দিন।
শীতকালে গরম পোশাক
শীতকাল মানেই ঠান্ডা কুয়াশা আর বাতাসে ভরা আবহাওয়া এটা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু
এই শীতের আগমন কে ভয় না পেয়ে এর মোকাবিলা করতে হবে। যার জন্য আমাদের শীত থেকে
বাঁচার ব্যবস্থা করতে হবে।
আমরা সবাই জানি যে পৌষ আর মাঘ মাস মিলে হয় শীত ঋতু। শীতের সময় তাপমাত্রা কম
থাকায় শরীর দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়। শিশু এবং বয়স্ক বয়যারা বাহিরে থাকেন তাদের
জন্য গরম পোশাক বেশি জরুরি।
শীতকালে সবচেয়ে পরিচিত পোশাকগুলোর মধ্যে একটি হলো সোয়েটার। এটি শরীর কে উষ্ণ
রাখার পাশাপাশি পরতেও বেশ আরামদায়ক। বিভিন্ন ধরনের সোয়েটার পাওয়া যায়, তাই
আবহাওয়া অনুযায়ী বেছে নেওয়া যায়।
শীতকালে বয়ষ্কদের সুরক্ষা
শীতে ঠান্ডা আবহাওয়া সবার জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। তবে বয়স্ক ব্যক্তিদের
ক্ষেত্রে ঠান্ডার প্রভাব একটু বেশি হতে পারে। তাপমাত্রার পরিবর্তন জন্য
বয়স্কদের বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও দেখা দিতে পারে।
তাই পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের প্রতি এই সময়ে বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
বয়স্ক ব্যক্তিদের ঠান্ডা থেকে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় গরম কাপড় পড়ানো
উচিত।
ভোরের দিকে ঠান্ডা ও কুয়াশা বেশি থাকে তাই এই সময় প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে না
যাওয়ায় ভালো। বাহিরে যেতে হলে যথাযথ গরম কাপড় পড়তে হবে। পরিবারের সবাই একটু
সচেতন হলে শীতের সময় বয়স্ক সদস্যদের অনেকটাই নিরাপদ ও স্বস্তিতে রাখা
সম্ভব।
শীতকালে ভ্রমণ
আরো পড়ুনঃ
শীতকাল মানেই মনোরম আবহাওয়া,সকালের কুয়াশা আর প্রকৃতির সুন্দর রূপ। গরমের
তীব্রতা না থাকাই এই সময় ভ্রমণের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায়। পরিবার,
বন্ধু, ও প্রিয়জন হতে পারে এই সুন্দর সময়ের সঙ্গী।
শীতের ছুটিতে ঘুরতে যাওয়া হতে পারে দারুন এক অভিজ্ঞতা শীতকালের কুয়াশায় ঢাকা
পথ, সমুদ্র, পাহাড় সব কিছুই যেন নতুন মনে হয়। শীতকালে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকার
কারনে ঘোরাঘুরি করেও অনেক মজা পাওয়া যায়।
কোথায় ঘুরতে যাবেন, কতোদিন থাকবেন এসব বিষয়ে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া
প্রয়োজন। ভ্রমণের সময় নিয়মিত ব্যবহারের ওষুধ থাকলে পর্যাপ্ত পরিমাণে সঙ্গে
রাখুন।
শীতের আগমনে প্রকৃতির সৌন্দর্য
শীতের আগমন মানেই প্রকৃতিতে নতুন পরিবর্তন। হালকা বাতাস আর মিষ্টি রোদের
উষ্ণতায় প্রকৃতি হয়ে ওঠে অপূর্ব সুন্দর। শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে গ্রাম বাংলার
সবখানেই যেন শীতের ছোঁয়া অনুভব করা যায়।
শীতের সকালের অন্যতম আকর্ষণ হল কুয়াশা। ভোরের দিকে যখন চারপাশ কুয়াশায় ঢাকা
থাকে তখন দূর থেকে মনে হয় গাছপালা আর রাস্তাঘাট সাদা চাদরে ঢাকা পরেছে।
সূর্যের আলো ধীরে ধীরে কুয়াশা কে সরিয়ে দিলে
প্রকৃতির সৌন্দর্য আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সূর্যের আলো পড়লে ঘাসের উপরে জমে থাকা
শিশির কণাগুলো ঝলমলে আলোর মতো জ্বলে ওঠে। প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে এই দৃশ্য
শীতের অন্যতম সুন্দর উপহার।
শীতের আগমনে গ্রাম বাংলার চিত্র
শীতকালে সরিষা ও বিভিন্ন শীতকালীন ফসলের সবুজ হলুদ রং গ্রামের মাঠ কে আরো অনেক
সুন্দর আকর্ষণীয় করে তোলে। শীত এলেই খেজুরের রস সংগ্রহের ব্যস্ততা শুরু
হয়।
ভোরে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়।
তাজা খেজুরের গুড় আর পিঠার গন্ধে গ্রামের চারিপাশ হয়ে উঠে আরো আনন্দময়।
শীতকাল গ্রাম বাংলার পিঠাপুলির মৌসুম। বাড়িতে বাড়িতে নানান রকমের ঐতিহ্যবাহী
পিঠা তৈরি করা হয়।
পরিবারের সকলে মিলে এই পিঠা তৈরির উৎসব যেন স্মৃতি হয়ে রয়ে যায়। শীতের সকালে
মানুষ কাঠ বা খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহায়।ছোট বড় সকলে মিলে আগুনের
পাশে বসে নানান গল্প গুজব করে। এই দৃশ্য গ্রাম বাংলার শীতকালীন চিত্র।
শেষকথাঃ শীতের আগাম প্রস্তুতি
শীতের আগমন যেমন প্রকৃতিতে নতুন সৌন্দর্য ও আনন্দ নিয়ে আসে, তেমনি এই ঋতুতে সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। সঠিক প্রস্তুতি থাকলে যেমন শীতের ঠান্ডা সহজে মোকাবিলা করা যায়, তেমনি উপভোগ করা যায় শীতের নির্মল সকাল।
শিশু ও বয়স্কদের প্রতি রাখুন বাড়তি যত্ন। নিজের আসুন সতর্ক থাকি, নিরাপদ থাকি এবং সমর্থ্য অনুযায়ী অসহায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায় - সবার শীত হোক স্বস্তিদায়ক, আরামদায়ক ও আনন্দময়।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url